ডাটা ও ইনফরমেশন বলতে কী বুঝায়? অথবা, উপাত্ত ও তথ্য বলতে কী বুঝায়?

ডাটা ও ইনফরমেশন বলতে কী বুঝায়?
অথবা,  উপাত্ত ও তথ্য বলতে কী বুঝায়?



উপাত্ত বা ডাটা:  তথ্যের অন্তর্ভুক্ত ক্ষুদ্রতম অংশসমূহকে ডাটা বা উপাত্ত বলে । ল্যাটিন শব্দ Datum এর বহুবচন Data। 
Data অর্থ হচ্ছে তথ্যের উপাদান।
ডাটা এক বা একাধিক বর্ণ, চিহ্ন বা সংখ্যা বিশিষ্ট হতে পারে। ডাটা সাধারণত এলােমেলাে অবস্থায় থাকে। 


তথ্য বা ইনফরমেশন   :  ডাটাকে কম্পিউটারের সাহায্যে প্রয়ােজনমত প্রক্রিয়াকরণ করে যে রিপাের্ট তৈরি করা হয় তাকে তথ্য বা
  ইনফরমেশন বলে। অর্থাৎ, ডাটাকে প্রক্রিয়াকরণ  করে যে ফলাফল পাওয়া যায় তাকে তথ্য বলে। তথ্য সাধারণত সুন্দরভাবে সাজানাে
থাকে। যেমন- সাধারণত তথ্য নির্ভুল, স্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত ও সহজ সরল হতে হবে।

ডাটা ও তথ্যের মধ্যে পার্থক্য। 
অথবা, উপাত্ত ও তথ্যের মধ্যে পার্থক্য 

 ডাটা বা উপাত্ত : 

১। সংজ্ঞা : তথ্যের অন্তর্ভুক্ত ক্ষুদ্রতম অংশসমূহকে
ডাটা বা উপাত্ত বলে। 

২। ধারণা : ডাটা হচ্ছে একক ধারণা।

৩। প্রক্রিয়াকরণ অবস্থা : ডাটা হচ্ছে উৎস।

৪। সাজানাে : এটা এলােমেলাে শব্দ বা বর্ণ সমষ্টি

৫৷ অর্থবহুল :  ডাটা অর্থবহুল নয়।

৬। ধরনঃ  সকল তথ্যই উপাত্ত বা ডাটা হতে পারে।


তথ্য বা ইনফরমেশন :

১। সংজ্ঞা  :  ডাটাকে কম্পিউটারের সাহায্যে প্রয়ােজনমত প্রক্রিয়াকরণ করে যে রিপাের্ট তৈরি করা হয় তাকে ইনফরমেশন বা তথ্য বলে।

২। ধারনা  :  তথ্য হচ্ছে ব্যাপক ডাটার সমন্বয়।

৩। প্রক্রিয়াকরণ অবস্থা :  তথ্য হচ্ছে ফলাফল।

৪। সাজানাে :   তথ্য সাধারণত সুন্দরভাবে সাজানাে থাকে।

৫। অর্থবহুল  :   তথ্য অর্থবহুল।

৬। ধরন :   সকল ডাটাই তথ্য নয়।


তথ্যের বৈশিষ্ট্যসমূহ  :

১। নির্ভুলতা  :  ডাটা অবশ্যই নির্ভুল হতে হবে। ডাটা নির্ভুল হলে প্রক্রিয়াকরণের পর যে তথ্য পাওয়া যাবে তা নির্ভুল হবে। ডাটা  ইনপুট হিসেবে  প্রমাণ করলে কম্পিউটার ভুল আউটপুট দিবে। ভুল ইনপুটের কারণে ভুল ফলাফল পাওয়াকে Grabage in Grabage out বলে। 

২। সহজবােধ্যতা :  তথ্যের উপর ভিত্তি করেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে তথ্য সহজবােধ্য না হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অসুবিধা  হয়। 

‌৩।সময়ােপযােগিতা :   সময় উপযােগী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তথ্য ও সময়ের মধ্যে অবশ্যই সংগতিপূর্ণ হতে হবে। তা না হলে  সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অকার্যকর হয়। 

৪। প্রাসঙ্গিকতা :  সিস্টেমের   উদ্দেশ্যের সাথে ডাটা ও তথ্যের প্রত্যক্ষ বা পরােক্ষভাবে সম্পর্কযুক্ত থাকতে পারে।   অপ্রাসঙ্গিক ডাটা ও তথ্য সিস্টেমের জটিলতা বাড়ায়। 

 ৫। পূর্ণাঙ্গতা :  সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ ডাটা ও তথ্যের ব্যবহার করা হয়।

৬। সংক্ষিপ্ততাঃ ডাটা অবশ্যই সংক্ষিপ্ত হওয়া প্রয়ােজন।

৭। সঙ্গতিপূর্ণতা  :  তথ্য অবশ্যই সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া প্রয়ােজন। অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য সিস্টেমের ফলাফলকে প্রভাবিত করে, ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়ায়।

৮। নিরাপত্তা :  তথ্যের নিরাপত্তা অত্যন্ত জরুরি। একটি প্রতিষ্ঠানের কে কোন তথ্য ব্যবহার করবে তা তথ্যের নিরাপত্তার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়। যাতে সবাই সব তথ্য ব্যবহার করতে না পারে। ফলে তথ্যের নিরাপত্তা ও গুণগত মান বজায় থাকে।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কম্পিউটার ব্যবহার নিয়ে কিছু জানা-অজানা টিপস

কম্পিউটার কী? কম্পিউটার বলতে কী বুঝায়? অথবা, কম্পিউটার কী? কম্পিউটারের প্রধান কাজ