
কম্পিউটার কী?
কম্পিউটার বলতে কী বুঝায়?
অথবা, কম্পিউটার কী? কম্পিউটারের প্রধান কাজ
Computer- একটি অত্যন্ত দ্রুতি গতি সম্পন্ন ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র। অন্যান্য ইলেট্রনিক্স যন্ত্রের সাহায্যে দুই-তিনটির বেশী কাজ করা যায় না। কিন্তু কম্পিউটারের সাহায্যে অনেক রকম দুরূহ কাজ নিখুত ভাবে করা সম্ভব। কম্পিউটারের প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য হল এটি লক্ষ লক্ষ তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে।অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ও নির্ভুলভাবে নির্দেশিত নির্দেশসমূহ পালন করতে পারে। কম্পিউটার শব্দটি গ্রীক compute শব্দ থেকে এসেছে।
compute শব্দের অর্থ হচ্ছে গণনা করা। মূলত কম্পিউটার (কম্পিউটার) শব্দের অর্থ গণনাকারী যন্ত্র। (আবার ল্যাটিন শব্দ Computare ও থেকে Computer শব্দের উৎপত্তি বলে ও মনে করে ) পূর্বে কম্পিউটার দিয়ে শুধুমাত্র হিসাব-নিকাশের কাজ করা হত। ইলেকট্রনিক সংকেতের উপর ভিত্তি করে তৈরী করা হয়েছে কম্পিউটার ল্যাংগুয়েজ বা কম্পিউটার ভাষা। কম্পিউটারের ল্যাংগুয়েজ এর মাধ্যমে কম্পিউটারে যে নির্দেশ দেয় তারই ভিত্তিতে Computer ফলাফল প্রকাশ করে থাকে। কম্পিউটারের এ ভাষা/ ল্যাংগুয়েজই হল কম্পিউটারের প্রোগ্রাম। প্রোগ্রাম ব্যতীত কম্পিউটার একটি জড় পদার্থ। কিন্ত বর্তমান যুগে কম্পিউটারের বহুমুখী ব্যবহারের ফলে কম্পিউটারের সংজ্ঞা অনেক ব্যাপকতা লাভ করেছে। কোন সীমিত সংজ্ঞা দিয়ে আর কম্পিউটার গন্ডীবন্ধ করা যায় না।
Computer এর সংজ্ঞা-
কম্পিউটার হলো একগুচ্ছ বৈদুতিক তরঙ্গকে নিজস্ব সংকেতে রুপান্তর করে ব্যবহারকারী কর্তৃক প্রয়োগকৃত কমান্ডের সাহ্যাযে্য উদ্ভূ সমস্যার সমাধান করে থাকে।
কম্পিউটারের বৈশিষ্ট :
কম্পিউটার নির্ভুল ফলাফল, দ্রুতগতি, ডাটা সংরক্ষন, স্বয়ংক্রিয় কর্মক্ষতা, সহনশীলতা, স্মৃতি বা মেমরী, ইত্যাদি বৈশিষ্ট বিদ্যমান।
কম্পিউটারের ব্যবহার ঃ
ঘর থেকে শুরু করে অফিস- আদালত এমন কোন জায়গায় খুজে পাওয়া যাবে না।যেখানে Computer ব্যবহার হয় না, অফিসের কাজে , ব্যবসার-বাণিজে্য, স্কুলে-কলেজে-বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিভিন্ন ধরনের প্রোজেক্ট। শিল্প-কারখানায়, খেলাধুলা, চিত্তবিনোদনে, দোকান পাট, ব্যাং-ইন্সুরেন্স কোম্পানী, আবহাওয়া অফিস, মহাশুন্য স্টেশন-ইত্যাদি সকল ক্ষত্রে কম্পিউটার ব্যবহার হয়।
কম্পিউটারের ইতিহাস
কম্পিউটারের ইতিহাস :
স্কটল্যান্ডের গণিতবিদ জন নেপিয়ার ( ১৫৫০- ১৬১৭ ) হিসাব-নিকাশের জন্য হাতীর দাতের ছোট ছোট অংশ দিয়ে একটি যন্ত্র তৈরি করলেন যাকে নেপিয়ারের অস্থি বলা হয়। নেপিয়ারের অস্থি ছিল এনালগ বা তুলনাভিত্তিক গণনা গন্ত্র। পরবর্তীতে ফরাসী বিজ্ঞানী রেইজ প্যাচক্যাল( ১৬২৩-১৬৬২) প্রথম গণনার যন্ত্র চাকার সাহায্যে তৈরিতে সক্ষম হন। যেতেতু চাকা দুই দিকেই ঘুরানো যেত তাই যোগ বিয়োগ করার কোন অসুবিধা হতোনা। পরবর্তী ৩০ বছর পর বিখ্যাত জার্মান গণিতবিদ লিবনিজ ( Leibniz- 1646-1716) আরেকটি গণক যন্ত্র তৈবি করেন যার সাহায্যে গুন ভাগ করা যেত।
তিন শতাব্দী পূর্বে বর্তমানের সমতুল্য চার ফাংশন বিশিষ্ট ক্যালকুলেটরটিও তিনি নির্মাণ করেন।
আধুনিক কম্পিউটারের জনক হিসাবে পরিচিত বৃটিশ নাগরিক র্চালস ব্যাবেজের ( ১৭৯২-১৮৭১) নাম স্মরন করা হয়ে থাকে। তিনি ১৮২২ সালে সরকারের অনুদানে ডিফারেন্স ইঞ্জিল বা বিয়োগ ভিত্তিক গণনা যন্ত্র তৈরি করেন। ( ada augusta lovelace) আদা আগুসতা ল্যাভল্যাচ ই পৃথিবীর প্রথাম Computer প্রোগামার। প্রায় ১০৩৭-৪৪ সাল পযর্ন্ত আই বি এম কোম্পানীর সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের হাউয়ার্ড আইফেন হারভার্ড বিশ্ববিদ্যায়ে পৃথিবীর প্রথম বৈদুতিক যান্ত্রিক কম্পিউটার তৈরী করেন। চার্লস ব্যাবেজের এনালাইটিক ইঞ্জিনের এ ছিল বাস্তবরূপ।
কম্পিউটারের প্রজন্মঃ
প্রথম প্রজন্মঃ ১৯৪০ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল কে কম্পিউটার কে প্রথম প্রজন্ম বলা হয়।অইঈ ( Atanasof Barry কম্পিউটার) ডঃ জন আটানাসফ। গবেষনার জন্য।দ্বিতীয় প্রজন্মঃ ১৯৫৮ সাল থেকে ১৯৬৫ সাল কে কম্পিউটার কে দ্বিতীয় প্রজন্ম বলা হয়।গণনাকারী যন্ত্রের ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায়, প্রায় চার হাজার বছর পূর্বে চীনারা অ্যাবাকাস নামক গণনাকারী যন্ত্র আবিষ্কার করে। যাকে কম্পিউটারের পূর্বপুরুষ বলা হয়। সেই থেকে অদাবধি বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে বর্তমান আধুনিক কম্পিউটার আবিষ্কৃত হয়েছে।
১৮৩৩ সালে আধুনিক কম্পিউটারের মৌলিক রূপরেখা তৈরী করে বৃটিশ গণিত বিশারদ চার্লস ব্যাবেজ (charles babbage)। যাকে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয়। র্চালস ব্যাবেজের ধারণার প্রতিফলন ঘটিয়ে ১৯৪৪ সালে হাওয়ার্ড একিনের নেতৃত্বে মার্ক-১ (Mark-1) নামের ইলেক্ট্রনিক কম্পিউটার আবিষ্কার হয়। এই Computer টি তৈরিতে কাজ করেছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও বিখ্যাত আইবিএম কোম্পনির একদল বিজ্ঞানী।মাইক্রো প্রসেসর আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে কম্পিউটারের সবচেয়ে বড় বিপ্লব ঘটে। ১৯৭১ সালে আমেরিকার ইন্টেল (intel) কোম্পানী সর্বপ্রথম মাইক্রো প্রসেসর (micro processor) তৈরী করে। মাইক্রো প্রসেসর এক বর্গ ইঞ্চি মাপের অল্প আয়তন বিশিষ্ট সিলিকন পাতে হাজার হাজার ট্রানজিষ্টর সন্নিবেশিত একটি য্ন্ত্রাংশ। মাইক্রো প্রসেসর দিয়ে তৈরী কম্পিউটারই আধুনিক মাইক্রো কম্পিউটার বা পার্সোনাল কম্পিউটার।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন